ইরানে চলমান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে মিশর, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন। তবে আলোচনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ইরানের পক্ষ থেকে কার্যকর আলোচনাসঙ্গীর অভাব।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের আগে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আলী লারিজানি নিহত হন। তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় সক্ষম একজন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।
এ পরিস্থিতিতে মিশরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে একটি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। তারা সাময়িকভাবে সংঘর্ষ থামিয়ে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন, যাতে ভবিষ্যতে স্থায়ী সমঝোতার পথ তৈরি করা যায়।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন এবং তা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন।
তবে রিয়াদের আলোচনার অগ্রগতির খবর হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ট্রাম্প পরবর্তীতে তার অবস্থান নমনীয় করে কূটনৈতিক পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযান স্থগিত রাখেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর উদ্যোগে গোপন আলোচনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা দেখিয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় এনে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত এই সংঘাতের অবসান চায় বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
