মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাত থামাতে ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-ও সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বারবার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন, ফলে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পাল্টাপাল্টি প্রচারণার মধ্যে কোন পক্ষের বক্তব্য সত্য তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কৌশলগত স্বার্থ বুঝলে বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে।
অর্থনীতি এখানে বড় একটি উপাদান। যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজার, বিশেষ করে তেলের দামে পড়ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক, আবার বাজারে অস্থিরতা বজায় রাখতে আলোচনা অস্বীকার করাও ইরানের কৌশলের অংশ হতে পারে।
ট্রাম্প যাদের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অন্যতম। তবে তিনিও প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং এটিকে ‘ভুয়া প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে সময় অর্জন করাও ট্রাম্প প্রশাসনের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে। কারণ, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আগে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এতে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফলে তার সামনে এখন দুটি পথ—যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অথবা দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো।
অন্যদিকে ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিস্থিতি জটিল। সাম্প্রতিক হামলার অভিজ্ঞতা থেকে তেহরান ভবিষ্যতের জন্য শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেই সক্ষমতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সহজে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী হবে না।
একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার সুযোগও ইরান নিতে পারে। তবে দীর্ঘ সংঘাতে ইরানও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে—প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের অবনতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ভেতরের মধ্যপন্থী নেতৃত্ব ভবিষ্যতে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিতে পারে। বিশেষ করে যদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে একটি সমঝোতার পথও তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের অস্বীকার—দুটিই নিজ নিজ কৌশলের অংশ হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আলোচনা হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়; তবে উভয় পক্ষই নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পরিস্থিতি পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
