ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য সামনে এসেছে। যদিও প্রস্তাবটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব সীমিত করা। প্রস্তাবে ইরানের কাছে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদোসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বন্ধ ও ধ্বংস করা, সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার দেওয়া। পাশাপাশি নিজ ভূখণ্ডে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে এবং বিদ্যমান সমৃদ্ধ উপাদান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে সীমিত রাখা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সব সময়ের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব শর্ত মানলে ইরানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার নিশ্চয়তা।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালে এক মাসের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা ইরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
