মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ সম্মত হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত ইসলামাবাদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির স্বার্থে চলমান সব ধরনের শান্তি উদ্যোগকে পাকিস্তান সমর্থন করে। তিনি আরও জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে একটি ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে পাকিস্তান আতিথেয়তা দিতে আগ্রহী।
পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর পরদিনই শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ও মিসরের পাশাপাশি পাকিস্তানও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক থাকার কারণে পাকিস্তান এই সংলাপের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। যদিও ট্রাম্প আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন এবং দাবি করেছেন ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগে আগ্রহী, তেহরান এখনো সরাসরি কোনো বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
তবে ইরান জানিয়েছে, ‘বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর’ মাধ্যমে আসা প্রস্তাবগুলো তারা পর্যালোচনা করছে। এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তানের নতুন উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
