জায়ান্ট স্কুইড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের একটি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Architeuthis dux। সমুদ্রের গভীর অন্ধকার জগতে বসবাসকারী এই প্রাণীকে অনেক সময় সমুদ্রের দানব বা কিংবদন্তির ক্রেকেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
জায়ান্ট স্কুইড সাধারণত গভীর সমুদ্রের ঠান্ডা, অন্ধকার ও চাপযুক্ত পরিবেশে বাস করে। এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ থেকে ৩৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। দেখতে অনেকটা Octopus–এর মতো হলেও গঠনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
অক্টোপাসের মতোই এদের মাথা ও বাহুগুলোর সঙ্গে জটিল স্নায়ুতন্ত্র যুক্ত থাকে। তবে জায়ান্ট স্কুইডের শরীরে আটটি বাহুর পাশাপাশি দুটি দীর্ঘ তাঁবুর মতো অংশ থাকে। এই দুটি লম্বা তাঁবু দিয়ে তারা শিকার ধরে। তাঁবুগুলোর প্রান্তে শক্তিশালী চোষক বা সাকার থাকে, যার মাধ্যমে মাছ, শেলফিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী আঁকড়ে ধরে খেয়ে ফেলে।
জায়ান্ট স্কুইডের শরীরে দুটি ছোট পাখনাও থাকে, যা তাদের সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। তারা মাংসাশী প্রাণী এবং মাছ, অক্টোপাস এমনকি ছোট তিমিও শিকার করতে পারে। শিকার ধরার সময় বা বিপদের মুহূর্তে তারা শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে সক্ষম।
এই প্রাণীর সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এর চোখ। জায়ান্ট স্কুইডের চোখ পৃথিবীর যেকোনো প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বড়। একটি চোখের ব্যাস প্রায় ১০ থেকে ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে শিকার শনাক্ত করার জন্য এই বিশাল চোখ খুবই কার্যকর।
ওজনের দিক থেকেও জায়ান্ট স্কুইড বিশাল। একটি পূর্ণবয়স্ক জায়ান্ট স্কুইডের ওজন প্রায় ৯০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। জটিল মস্তিষ্ক ও উন্নত স্নায়ুতন্ত্রের কারণে এটি সামুদ্রিক জগতের অন্যতম রহস্যময় প্রাণী হিসেবে পরিচিত।
সমুদ্রতীরবর্তী অনেক দেশে এই প্রাণীকে ঘিরে নানা লোককাহিনি প্রচলিত আছে। বিশেষ করে New Zealand–এর উপকূলীয় অঞ্চলে শিশুদের ঘুম পাড়ানোর গল্পেও জায়ান্ট স্কুইডের উল্লেখ পাওয়া যায়।
জায়ান্ট স্কুইডকে ঘিরে মানুষের কল্পনা ও রহস্যের জগৎ অনেক পুরোনো। পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ঔপন্যাসিক তাদের উপন্যাসে এই সামুদ্রিক দৈত্যকে নিয়ে রোমাঞ্চকর গল্প লিখেছেন। সেই গল্পগুলোর অনেকগুলো থেকেই পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে।
গভীর সমুদ্রের অজানা জগতে বসবাসকারী এই বিশাল প্রাণী আজও বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্যময় বিস্ময় হয়ে রয়েছে।
