ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। একই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবেদনে মূলত মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র নেতানিয়াহুর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। সেই সময় বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গভির, যিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে যে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটার পরিচালনা করেন কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রতিবেদনটিতে সরাসরি হামলার কোনো ভিডিও বা স্পষ্ট প্রমাণ দেখানো হয়নি। বরং কিছু পরিস্থিতিগত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেদ কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সম্ভাব্য সফর স্থগিত হওয়া এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর কথিত ফোনালাপের ফরাসি নথিতে তারিখ উল্লেখ না থাকা।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নামে সর্বশেষ বিবৃতি প্রকাশ করা হয় ৭ মার্চ। সেদিন তিনি বীরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে যান বলে জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২ মার্চ কয়েকটি ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। তবে পরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম সেই তথ্যকে গুজব বলে উল্লেখ করে।
