জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রথম আসামি আবুল হাসানসহ দু’জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও কমান্ড রেসপনসিবিলিটি সম্পর্কিত তিনটি অভিযোগ রয়েছে। ৮-১০ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে দুটি অভিযোগ। শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
অভিযোগপত্র পড়ে শোনার পর ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা আসামিদের দোষ স্বীকারের বিষয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সোবহান। গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান। পলাতক ৯ জনের পক্ষে ছিলেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার।
