গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টম হাউস দিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সাত হাজারেরও বেশি গাড়ি খালাস হয়েছে, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ সময়ে ৬ হাজার ৬৫১টি গাড়ি ছাড়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগমুহূর্তে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গাড়ি আমদানি ও ডেলিভারি—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড গেটে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা নিত্যদিনের চিত্র। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি গাড়ি ডেলিভারি নিচ্ছেন আমদানিকারকরা। বন্দর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের শুরু জুলাইয়ে যেখানে ৪৩৯টি গাড়ি আমদানি হয়েছিল, পরের মাসেই সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০৫টিতে। ডিসেম্বর মাসে আমদানি হয় ১ হাজার ৫৮টি গাড়ি।
হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ১৬টি রো-রো জাহাজে করে ৮৪১টি নতুন ও ৬ হাজার ২২৫টি রিকন্ডিশন গাড়ি দেশে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, বর্তমানে গাড়ি ডেলিভারি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হচ্ছে। বন্দরে এখন মোট গাড়ি রয়েছে মাত্র ৪৭১টি, যার বেশিরভাগই ৩০ দিনের কম সময় ধরে অবস্থান করছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে গাড়ি ছাড় না হলে তা নিলামের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে নিলামযোগ্য নতুন গাড়ির সংখ্যা মাত্র ১০৩টি। দ্রুত নিলাম কার্যক্রম ও ডিউটি কমার সুযোগ না থাকায় আমদানিকারকরা এখন আর গাড়ি ফেলে রাখছেন না।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ হাজার ৩৪টি বেশি গাড়ি ডেলিভারি হয়েছে এবং রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়া ও অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতির কারণে গাড়ি আমদানিও বেড়েছে। পাশাপাশি বিত্তবানদের মধ্যে বিলাসী পণ্যের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।
বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, ট্যারিফ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়ারফেন্ড ও গুদাম ভাড়া দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় আমদানির সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি ছাড় করানো হচ্ছে। বর্তমানে ব্যক্তিগত শখের চেয়ে করপোরেট গ্রাহকরাই বেশি গাড়ি কিনছেন।
প্রসঙ্গত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে বছরে ২০ হাজারের বেশি গাড়ি আমদানি হয়। তুলনামূলক কম ট্যারিফের কারণে এসব গাড়ির বড় একটি অংশ মোংলা বন্দর দিয়েও খালাস করা হয়।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ.
