চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোড, লাল মিয়া বাপের বাড়ি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক সড়ক রাতের আঁধারে উঁচু করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা গাজী নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে।
এ সড়কটি প্রায় ২৫০–৩০০ ফুট দীর্ঘ, যা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ চলাচল করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাজী নুরুল আমিন নিজের ভবনের সামনে মাত্র ৮–১০ ফুট অংশে মাটি ও বালি ফেলে রাস্তার উচ্চতা বাড়িয়ে দেয়। এতে করে পুরো সড়কজুড়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। একই সঙ্গে রাস্তার উপরিভাগ উঁচু হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশনে জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসী জানান, রাতের বেলায় কাজ চলাকালে বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে মহল্লা কমিটিতেও বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়াও গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে, যার প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও থানায় পৃথক জিডি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, গাজী নুরুল আমিন বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করেছেন, যার বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-তে একটি অভিযোগও রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। এলাকাবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিজেকে বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিলেও মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে তারা এমন কাউকে চেনেন না।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন,
“অন্যায়কারীর কোনো দল নেই। কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করলে, প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এ অবৈধ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় তারা মানববন্ধনসহ আন্দোলন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
