বাংলাদেশ সরকার ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর ভারতের কাছে নোট ভার্বাল পাঠিয়ে তাঁদের প্রত্যর্পণ চেয়েছে। কিন্তু ভারত এখনো সরাসরি কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত হাসিনাকে ফেরত দেবে না। প্রধান কারণগুলো:
১. ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারকে ভারত দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত মিত্র’ মনে করে। মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা, ১৯৭৫-এর পর আশ্রয়, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা—এসব কারণে একজন ‘পুরোনো বন্ধুকে’ মৃত্যুদণ্ডের মুখে ঠেলে দেওয়া দিল্লির জন্য রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব।
২. ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ ধারা ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধে’ প্রত্যর্পণ করা যাবে না বলে স্পষ্ট বাধা আছে। ভারত এই ধারা ব্যবহার করে সহজেই প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
৩. বর্তমান সরকারের ‘সীমিত ম্যান্ডেট’ ভারতীয় বিশ্লেষক স্মৃতি এস. পট্টনায়ক বলেছেন, বাংলাদেশে এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায়। দিল্লি বড় সিদ্ধান্ত নেবে কেবল ২০২৬ সালে নির্বাচিত সরকার আসার পর।
৪. বিচার প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে সন্দেহ ভারত প্রশ্ন তুলতে পারে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচার কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। এমনকি প্রত্যর্পণের আবেদন গেলে ভারতীয় আদালতে পূর্ণ শুনানি হবে, যেখানে হাসিনা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারবেন।
৫. ভারতের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ভারত কোনো পক্ষকে রাগাতে চায় না। হাসিনাকে ফেরত দিলে এক পক্ষ, না দিলে আরেক পক্ষ ক্ষুব্ধ হবে। তাই দিল্লি ‘দেখি-দেখি’ নীতি নিয়ে অপেক্ষা করছে।
ফলে বিশ্লেষকদের অধিকাংশই মনে করছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে না—অন্তত আপাতত নয়।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ.
