গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা করে বিতর্কিত হওয়া কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্সের এমডি আবদুর রশিদ আবারও আমার দেশ পত্রিকার তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯টিতে।
গত মঙ্গলবার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকার মানহানির দাবি করে এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ২ জানুয়ারি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, ব্যুরো প্রধান সোহাগ কুমার বিশ্বাস এবং স্টাফ রিপোর্টার এম কে মনির।
এর আগের দিন সোমবারও একই বাদী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি ফৌজদারি মামলা করেন, যাতে দুই সাংবাদিক এম কে মনির এবং সোহাগ কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়।
মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত রশিদ
২০০৮ সাল থেকে আবদুর রশিদ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ধারাবাহিকভাবে মামলা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তিনি একের পর এক মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।
তার মামলার তালিকায় আজাদী, নয়াদিগন্ত, যুগান্তর, যায়যায়দিন, প্রথম আলো, মাছরাঙা টিভিসহ বহু গণমাধ্যমের নাম রয়েছে।
এছাড়া সাংবাদিক সমাজে প্রচলিত আছে—রশিদ প্রস্তুত তালিকার পিডিএফ ফাইল সংরক্ষণ করে রাখেন এবং কোনো রিপোর্টিং শুরু হলেই সেই তালিকা সামনে এনে মামলা দিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন।
চট্টগ্রামে প্রতিবাদের ঝড়
আমার দেশ-এর তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের ঘটনায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও সিএমইউজে পৃথক বিবৃতিতে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানায়।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন—এ ধরনের মামলা সরাসরি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হামলা ও তথ্য প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ।
সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
