জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায় আগামীকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেবেন।
রায় ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), রয়টার্স এবং ট্রাইব্যুনালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। এছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় লাইভ দেখার ব্যবস্থা করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই তারা প্রমাণ করতে পেরেছে। তাদের প্রত্যাশা—দুজনেরই সর্বোচ্চ দণ্ড। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ পরিষ্কার করেছেন, বাংলাদেশের আইনে নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির না থাকলেও এ মামলায় কোনো ব্যতিক্রম সম্ভব নয়। দণ্ড হলে সাজা পরোয়ানা ইন্টারপোলেও পাঠানো হবে।
গত ১৩ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছি। আদালতই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রথম মামলা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মিসকেস গ্রহণ করে। পরে তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ, মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার প্রমাণ-দলিল অনুযায়ী, ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। এরপর ১০ জুলাই তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পরে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন এবং সাক্ষ্য দেন। ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান তার সমাপনী যুক্তি উপস্থাপন করে হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। পরে চিফ প্রসিকিউটরও একই দাবি জানান। তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের খালাস প্রার্থনা করেন।
মামলার অভিযোগসমূহ:
১ম অভিযোগ:
১৪ জুলাই গণভবনের ব্রিফিংয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের পর নীরস্ত্র ছাত্র–জনতার ওপর ব্যাপক হামলা ও গুলিতে অন্তত দেড় হাজার নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার আহত হওয়ার অভিযোগ।
২য় অভিযোগ:
হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশ প্রদান—যা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় কর্মীদের কাছে পৌঁছায়।
৩য় অভিযোগ:
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা।
৪র্থ অভিযোগ:
চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা।
৫ম অভিযোগ:
আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
আজকের খবর/ এম. এস. এইচ.
