বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুরহস্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রয়াত নায়কের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক দাবি করেছেন, সালমান আত্মহত্যা করেছেন এবং এর আগে তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামিরা হক বলেন, “সালমান আত্মহত্যা করেছেন—এটা আমি নিশ্চিত জানি। এর আগেও সে তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। একবার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে, একবার আমাকে বিয়েতে রাজি করাতে, আরেকবার অন্য এক ঘটনায়। ও মেন্টালি সুইসাইডাল বাই নেচার।”
তিনি আরও জানান, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে দুইবার এবং অন্য এক হাসপাতালে একবারের আত্মহত্যাচেষ্টার তথ্য রয়েছে। সামিরা বলেন, সালমানের পারিবারিক সম্পর্ক ও মানসিক চাপই তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল। “ইমন তার মাকে মা বলে ডাকত না, বলত ‘মহিলা’। মায়ের সঙ্গে সম্পর্কটা খুব জটিল ছিল,” যোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বরাবরই দাবি করেছেন, তার ছেলে আত্মহত্যা করেননি, বরং হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার ছেলে কখনো নিজের প্রাণ নিতে পারে না। ওকে খুন করা হয়েছে।”
পিবিআই–এর সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার পূর্বে জানিয়েছিলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তবে নীলা চৌধুরী সেই প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। সম্প্রতি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মামলাটি হত্যার দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, আদালতের আদেশে নতুন করে সত্য উদঘাটনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র ২৫ বছরের জীবনে তিনি ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন এবং নব্বইয়ের দশকে দেশের চলচ্চিত্রে আধুনিক রোমান্টিক নায়কের মর্যাদা লাভ করেন।
সালমান শাহর মৃত্যু ও তার পরবর্তী তদন্ত আজও চলচ্চিত্র প্রেমী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিতর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
আজকের খবর/ এম. এস. এইচ.
