মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট শেয়ার করে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভারতকে ‘নরক’ বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রভাবশালী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক ও আইনপ্রণেতারাও এর কড়া সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্পের শেয়ার করা পোস্টে দাবি করা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তাৎক্ষণিক নাগরিকত্বের সুবিধা নেয় এবং পরে পুরো পরিবারকে সেখানে নিয়ে যায়।
এছাড়া প্রযুক্তিখাতে কর্মরত ভারতীয়দের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। সেখানে বলা হয়, ভারতীয় অভিবাসীরা কর্মক্ষেত্রে স্থানীয় মার্কিনিদের বদলে নিজেদের দেশের লোকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য ভুল তথ্যনির্ভর, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ।
তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ট্রাম্পের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত অমি বেরা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম বোঝা ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি এই মন্তব্যকে অজ্ঞতা এবং প্রেসিডেন্টের মর্যাদাহানিকর বলে উল্লেখ করেন।
আরেক কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী শক্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে খাটো করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করলো।
ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে গড়ে ওঠা বড় অংশীদারিত্বের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে এইচ-ওয়ান বি ভিসা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
