যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নিলেই ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরান থেকে আসা এই বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনটি শব্দে ব্যাখ্যা করা যায়—অস্পষ্টতা, ভঙ্গুরতা এবং জটিলতা।
প্রথমত, পুরো পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে থাকলেও তা বাড়ানো হয়েছে। এতে তাৎক্ষণিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে, তবে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, পরিস্থিতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতে পারে। বর্তমানে একমাত্র নিশ্চিত বিষয় হলো—অনিশ্চয়তা।
তৃতীয়ত, সংকটটি অত্যন্ত জটিল। একদিকে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো ও কূটনৈতিক তৎপরতার আলোচনা চলছে, অন্যদিকে দুই পক্ষের মধ্যে বহু বড় অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে।
এসব ইস্যুর মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক।
সূত্রগুলো বলছে, এখন আর শুধু অবিশ্বাস নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতা নিয়েই ইরানের ভেতরে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতি বাড়ানো কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করলেও, স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে দুই পক্ষকেই বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।
