যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নবজাতকদের মধ্যে জন্মগত ত্রুটির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে এখন প্রতিদিনই জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছে অসংখ্য শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ বয়সী আহমেদের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত তরল জমার লক্ষণ দেখা গেছে। একই ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে দুই মাস বয়সী সুহেইর, যার মুখ ও কানে একাধিক বিকৃতি রয়েছে। আরেক শিশু ওসামার হৃদযন্ত্রে ছিদ্র এবং মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেছে।
ওসামার মা নাজিয়া জু’রুব বলেন, যুদ্ধের মধ্যেই তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন। খাবারের অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর তাবুতে বসবাসের কারণে গর্ভকাল ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন, শিশুটির এই অবস্থা বংশগত নয়।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের পরিচালক জাহের আল-ওয়াহাইদি জানিয়েছেন, জন্মগত ত্রুটি বৃদ্ধির পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ রয়েছে—ব্যাপক অপুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার অবনতি, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, দূষিত পানীয় জল এবং চলমান বিমান হামলার প্রভাব।
তার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অন্তত ৪৫৭ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
চিকিৎসক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা না পৌঁছালে গাজায় নবজাতকদের এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
