জীবিকার তাগিদে ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে যাচ্ছিলেন একদল দিনমজুর। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় সাত প্রাণ। ওই ট্রাকের স্টিয়ারিং চালকের সহকারীর হাতে ছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালবোঝাই একটি ট্রাক খাদে পড়ে নিহত হন দিনাজপুরের সাতজন দিনমজুর। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও ছয়জন।
ট্রাকের যাত্রী আহত জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, “মুন্সীগঞ্জের ভবেরচরের মেঘনা ব্রিজের টোলপ্লাজায় এসে ড্রাইভার হেল্পারকে ট্রাক চালাতে দেয়। তারপরই দাউদকান্দিতে এসে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায়।”
এ দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আজাদের ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), একই জেলার বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন (২১), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০), একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু মিয়া (৩৫) ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)।
দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের নিচে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপর থাকা ১৩ জন নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের প্রাণ যায়। তারা সবাই কাজের সন্ধানে দিনাজপুর থেকে ট্রাকে থাকা চালের বস্তার ওপর চেপে কুমিল্লা ও ফেনীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
মো. হানিফ নামে আহত আরেকজন বলেন, “সবাই ট্রাকের উপরে ছিলাম। কখন সবাই উড়ে পড়ে গেলাম বুঝতেও পারি নাই।
“সবাই কাজের সন্ধানে দিনাজপুর থেকে ট্রাকে করে রওনা হয়েছিলাম। এখন হাসপাতালে, আমার হাত ভেঙে গেছে।”
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, নিহতদের লাশ দাউদকান্দি হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে এবং আহতরা গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই দাউদকান্দি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আমলঙ্গীর হোসেন বলেন, “আহতের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, হেলপার ট্রাক চালাচ্ছিল।
“পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদি তাদের কেউ বাধা দিত, তাহলে এতগুলো প্রাণহানি এড়ানো যেত।”
