চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত মনোরম ডিসি পার্কে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে বিশাল বৃক্ষরোপণ মহোৎসব। শনিবার (৪ এপ্রিল) এই মহতী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, ডিসি পার্ককে একটি শতভাগ পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। আগামী এক মাসের মধ্যে পুরো পার্কজুড়ে ৫৪ প্রজাতির ১০ হাজারেরও বেশি চারা রোপণ করা হবে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ২ হাজার গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের যাত্রা শুরু হয়।
প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে, বর্তমান কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে 'গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ' প্রকল্পের আওতায় মাত্র দুই মাসে তিনি জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও খোলা জায়গায় প্রায় ১ লাখ গাছ লাগিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিলেন। তাঁর সেই ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর উদ্যোগটি পরিবেশ সুরক্ষায় একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল।
পার্কটির সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, পার্কের সীমানা ঘিরে সুপরিকল্পিতভাবে সোনালু ও কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হবে, যেন ওপর থেকে দেখলে এটি একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যানভাসের মতো মনে হয়। পার্কের উত্তর অংশে গড়ে তোলা হবে বিশাল ফলের বাগান। সেখানে জাম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ নানা দেশীয় ফলের গাছ থাকবে, যা পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রম তৈরিতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে উপকূলীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই, বিরল প্রজাতির ও ঔষধি গাছও রোপণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, প্রকৃতির অপরূপ সান্নিধ্যের পাশাপাশি পার্কটিতে আধুনিক প্রযুক্তির চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হবে। নির্মল বায়ু ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বিনোদনকেন্দ্র উপহার দেওয়াই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। পরিবার-পরিজন নিয়ে সাধারণ মানুষ যেন এখানে এসে একটি প্রশান্তিময় সময় কাটাতে পারেন, সেদিকে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আগে এই পার্কে আয়োজিত ফুল উৎসবে ১৪০ প্রজাতির ফুলের সমারোহ দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। দর্শনার্থীদের সেই বিপুল আগ্রহ ও মতামতকে পুঁজি করেই পার্কটির নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে মেগা লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই এই সবুজায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর ফলে শিল্পায়ন ও নগরায়নের কারণে হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুনরায় ফিরে আসবে।
উদ্বোধনী আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদক আজকের খবর /
