ইরান হরমুজ প্রণালিকে ‘কৌশলগত গলিপথ’ হিসেবে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যে বড় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এর বিশ্লেষণ কিছুটা এভাবে করা যায়:
১. আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে প্রভাব
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলে। ইরান যদি প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে, তাহলে তেলের জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ হতে পারে। এতে বৈশ্বিক তেল বাজার অস্থির হবে, বীমা খরচ বাড়বে, এবং সরবরাহ স্থবির হওয়ার কারণে মূল্য উর্ধ্বমুখী হবে।
২. সামরিক ও কৌশলগত শক্তি প্রদর্শন
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হাতে আনুমানিক ৫-৬ হাজার নৌমাইন আছে। তারা প্রণালির উভয় পাশে এগুলো স্থাপন করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে সক্ষম। এটি ইরানের সামরিক ও কৌশলগত শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করে।
৩. নৌবহরের সীমাবদ্ধতা
মাইন অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত। পশ্চিমা দেশগুলো ছয়টি জাহাজ পাঠালেও প্রণালির সঙ্কীর্ণতা এবং মাইনের সংখ্যা বিবেচনায় তা অপর্যাপ্ত। মাইন অপসারণে দীর্ঘ সময়, ঝুঁকি এবং কষ্টসাধ্য প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
৪. বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপর প্রভাব
মাইন স্থাপনের কারণে প্রণালী সচল না হলে, বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার অস্থির হবে, বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পাবে, এবং জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যাহত হবে।
৫. সীমিত হুমকি ও রাজনৈতিক চাপ
ইরানের লক্ষ্য যুদ্ধ জেতা নয়। সস্তা মাইন স্থাপন করেও তারা বিলিয়ন ডলারের তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে অচল করতে পারে এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বৃদ্ধি করতে পারে।
সংক্ষেপে: হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন ইরানকে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার দেয়, যা আন্তর্জাতিক তেল বাজার, নৌ নিরাপত্তা, এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এটি শুধু সামরিক হুমকি নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের একটি কার্যকর উপায়।
