লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চলাকালে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে। হিজবুল্লাহ এবং লেবাননের বর্তমান সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন এক গভীর সংকটের রূপ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এবং প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের নেতৃত্বাধীন সরকার হিজবুল্লাহর সশস্ত্র শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ইরানের রাষ্ট্রদূতকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপগুলো হিজবুল্লাহর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
হিজবুল্লাহর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহমুদ কমাতি সরকারের এই ভূমিকাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ফ্রান্সের ভিশি সরকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সেই সময় নাৎসি জার্মানির সঙ্গে সহযোগিতার অপরাধে ভিশি সরকারের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান লেবানন সরকারও একই পথে হাঁটছে।
দ্রুজ সম্প্রদায়ের আইনপ্রণেতা ওয়ায়েল আবু ফাউর জানিয়েছেন, যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন এবং বিভিন্ন পক্ষের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহবিরোধী খ্রিস্টান আইনপ্রণেতা নাদিম জেমায়েল বলেছেন, উত্তেজনা ইতোমধ্যেই বিদ্যমান, তবে এখনো বিস্ফোরণ ঘটেনি এবং তিনি আশা করেন সেটি কখনো ঘটবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী যদি দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তাহলে সেটি সকলের জন্য বিপর্যয়কর হবে। লেবাননের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে ধারণ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করে এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আহ্বান জানান।
আজকের খবর/ এম.এস.এইচ
