মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় সুবিধা পাচ্ছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রেখে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগে দেশটি বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত আয় করছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় ইরানের তেল রপ্তানিতে নতুন গতি এসেছে। বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল রপ্তানি প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি রয়েছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের সমপর্যায়ের।
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি হচ্ছে চীনে। তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে সামগ্রিক আয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন ডলার আয় করছে দেশটি, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
খার্গ দ্বীপ টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অক্ষত থাকায় তেল রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পেরেছে ইরান। হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে নিয়মিত ট্যাংকার চলাচলও বজায় রয়েছে। পাশাপাশি কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপ করে অতিরিক্ত আয় করছে দেশটি।
অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অনেক দেশের তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অবস্থান ও বাজার পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইরান অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
