রমজান এলেই দেশে খেজুর খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু রমজান নয়—সারা বছরই পরিমিত খেজুর খেলে শরীর সুস্থ রাখা সহজ হয়। প্রতিদিন মাত্র ২–৩টি খেজুরও শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলকে অনেকেই ‘ন্যাচারাল এনার্জি ফুড’ বলে থাকেন। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে প্রায় ২৭৭ থেকে ৩১৪ ক্যালরি শক্তি মেলে। একই সঙ্গে এটি পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, কপার ও আয়রনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ভিটামিন বি৬ ছাড়াও এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান।
খেজুরের উচ্চমাত্রার ফাইবার হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখায় অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতেও এটি ভূমিকা রাখে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও খেজুর উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা রক্ষায়ও খেজুরের অবদান রয়েছে। অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে, যা স্মৃতিভ্রমজনিত রোগ প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া খেজুরে থাকা বিভিন্ন খনিজ হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স্ক ও নারীদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রক্তশূন্যতা কমানো এবং চুল পড়া রোধেও খেজুর কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, নিয়মিত পরিমিত খেজুর খাওয়া শরীরের জন্য বহুমুখী উপকার বয়ে আনতে পারে।
