কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্তে প্রায় ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত শেষে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহ জালালের স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের আর্থিক নথিপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশ বই ও ভাউচার যাচাই করে দেখা গেছে—২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিভিন্ন পরীক্ষার ফি, রেজিস্ট্রেশন ও প্রশংসাপত্র বাবদ আদায়কৃত অর্থের একটি বড় অংশের কোনো বৈধ হিসাব নেই। সব মিলিয়ে ১২ লাখ ২ হাজার ২৭ টাকা হিসাব বহির্ভূতভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ দায়েরের পর হঠাৎ বিদ্যালয়ের এনসিসি ব্যাংক হিসাবে ১১ লাখ ১১ হাজার ২৫৭ টাকা জমা দেওয়া হয়, যা তদন্ত কমিটি সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেছে। তদন্ত চলাকালে প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান তিন দফা লিখিত বক্তব্য দিলেও সেখানে একাধিক অসঙ্গতি ও পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যায়। কখনো অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার কখনো নগদে বিদ্যালয়ে থাকার দাবি করা হলেও কোনো দাবির পক্ষেই নির্ভরযোগ্য দাপ্তরিক প্রমাণ মেলেনি।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের দুই সিনিয়র শিক্ষক মো. মফিজুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলম টিপু কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। যদিও তারা নিজেদের বক্তব্য সত্য বলে দাবি করেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক হওয়ায় বিষয়টি আগে তাঁর নজরে আনা উচিত ছিল।
প্রতিবেদনে প্রশাসনিক দুর্বলতার দিকগুলো তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতি দিয়ে দক্ষ সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান, দুই শিফটে দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক শাখা পৃথকীকরণ এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ডেপুটেশনে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলামও বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
