বাংলা সালের ১৫ ফাল্গুন শনিবার। ঋতুরাজ বসন্তের একটি দিন। এদিন ভোর থেকে বাতাসের গায়ে শীতের কুয়াশা। সকালটা একটু দেরিতেই আড়মোড়া ভাঙে।
তবে কুমিল্লা নগরীর উত্তর চর্থা এলাকার মা বাসভবনের আঙিনায় গোলাপ মেলা সব আলস্য দূরে ঠেলে দিয়েছে। নারী-পুরুষ, শিশু সবাইকে চনমনে মন নিয়ে ফুলের মেলায় ঘুরতে দেখা গেছে। অনেকের চোখে বিস্ময় দেশি-বিদেশি ৪০ রকমের গোলাপ দেখে। ৪১ বছর পর কুমিল্লা নগরীতে এই ব্যতিক্রমী মেলা বসে।
লাল, কালো, সাদা, নীল, হলুদ ও সবুজ গোলাপের সঙ্গে রয়েছে মরু অঞ্চলের গোলাপ। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মোস্তফা কামাল ফুলু স্মরণে এই আয়োজন করা হয়। মেলায় অর্ধশতাধিক নারী গোলাপ ফুল প্রদর্শন করেন। দর্শনার্থীরা ফুল দেখছেন, তার পরিচয় জেনে নিচ্ছেন।
চারপাশে গোলাপের মিষ্টি ঘ্রাণ ভাসছে। দিনব্যাপী মেলা শেষে কয়েকজনকে পুরস্কৃত করা হয়। মেলার উদ্বোধন করেন কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কবি ড. আলী হোসেন চৌধুরী। মেলার আয়োজক মোস্তফা কামাল ফুলু ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান, অধ্যাপক সমীর মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা মমিনুল হক, নাট্যশিল্পী শাহজাহান চৌধুরী, ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল জহির স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক দেলেয়ার হোসেন টুটুল প্রমুখ।
নগরীর মগবাড়ি এলাকার তানজিয়া মোহাম্মদ মিম, উত্তর চর্থার ফ্লোরা তিশা, দক্ষিণ চর্থার আফসানা মিমি ও শাকতলা এলাকার ফারজানা চৌধুরী রিপা বলেন, ফুল ভালোবাসা ও সুন্দরের প্রতীক। মনের আনন্দে ফুলের চাষ করি। এই প্রথম আমরা এমন মেলায় অংশ নিয়েছি। এটা নতুন অভিজ্ঞতা। এই আয়োজন আমাদের আরও বেশি ফুল চাষে উৎসাহিত করবে।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল জহির স্বপন বলেন, অনেক দিন ধরে দেশের মানুষের মুখে হাসি নাই। মানুষ হাসতে ভুলতে গেছে। ফুল দেখে যেন মানুষের মন ভালো হয়ে যায়, তাই এই আয়োজন। এ ছাড়া ফুলচাষি নারীদের মূল্যায়ন ছিল আমাদের আরেকটি উদ্দেশ্য। এই ধরনের আয়োজন আগামীতে আরও বড় আকারে করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কবি ড. আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মোস্তফা কামাল ফুলু। তিনি প্রখ্যাত ছাত্রনেতা ছিলেন। তার স্মরণে তার ভাই আবদুল্লাহ আল জহির স্বপনসহ কয়েকজন এই আয়োজন করেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এটি সুন্দরের আয়োজন। ফুল নিঃস্বার্থ সুন্দর। ফুল দিয়ে আমরা মানুষকে বরণ করি। সেই ফুলকে সম্মান করার জন্য এই আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনের দ্বন্দ্ব সংঘাতে আমাদের মনে অনেক ক্লেদ জমে গেছে, ফুল উৎসবের এই আয়োজন সেই ক্লেদ দূর করবে বলে বিশ্বাস করি।
