কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে বাকস্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ভিত্তিক অগ্রগতির বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পসহ সব খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লার নেউরা এম.আই. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাস। এ অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ড. আখতার হামিদ খান। তাঁর উদ্ভাবিত ‘কুমিল্লা মডেল’ আজও দেশ-বিদেশে সমাদৃত। আধুনিক সেচব্যবস্থা ও সমবায়ভিত্তিক কৃষি উন্নয়নের সেই ধারা নতুনভাবে জাগ্রত করতে সরকার কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “আমি নিজেও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাঠের বাস্তবতা জানি। কৃষকবান্ধব নীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লাসহ সারাদেশের কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।” কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা হবে। শিল্প ও কৃষির সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে কুমিল্লাকে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
কুমিল্লাকে ব্যাংক ট্যাং ও শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “কুমিল্লার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি—কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের বিষয়েও আমি আমার অবস্থান থেকে অগ্রণী ভূমিকা রাখব।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন।
এদিকে সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নেউরা এম.আই. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। হাজী মো. জহিরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রনির্মাতা। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশ পাবে যোগ্য, মানবিক ও দক্ষ প্রজন্ম।”
তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে। একটি সাধারণ স্কুল ব্যাগও একজন শিক্ষার্থীর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের শিক্ষাখাতে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে শিক্ষার প্রসার ঘটলে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব। প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজ দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য খাত দেশের অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করে। এসব খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাজী মো. জহিরুল ইসলাম। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।
