ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ফিচার ব্যবহারের সুযোগ দিতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
মেটার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষ কিছু উন্নত এআই সুবিধা ব্যবহার করতে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলোর মৌলিক বা সাধারণ সেবাগুলো আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে।
এই সাবস্ক্রিপশন সেবার উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে আসছে ‘ভাইবস’ নামের একটি এআই ভিডিও তৈরির টুল। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এমন একটি ভিজ্যুয়াল ক্রিয়েশন প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহারকারীর কল্পনা বা নির্দেশনার ভিত্তিতে ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম।
এ ছাড়া সাবস্ক্রিপশন মডেলে ‘মানুস’ নামের একটি এআই স্টার্টআপের প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত ডিসেম্বরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে এই প্রতিষ্ঠানটি কেনার চুক্তি করে মেটা। মানুস এমন ধরনের এআই এজেন্ট তৈরি করেছে, যা অল্প নির্দেশনায় ভ্রমণ পরিকল্পনা বা প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো জটিল কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক হলেও প্রতিষ্ঠানটির সূচনা চীনে। এই অধিগ্রহণ চুক্তি নিয়ে বেইজিং তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। চীনের প্রযুক্তি রপ্তানি আইন বা জাতীয় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগেও বিভিন্ন সময় পেইড সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছে মেটা। গত বছর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ফেসবুকে পোস্টের সঙ্গে লিংক শেয়ার করার ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করে একটি পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের জন্য মাসিক ২ দশমিক ৯৯ পাউন্ডের সাবস্ক্রিপশন চালু করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে একই সেবার জন্য মাসে ৫ দশমিক ৯৯ ইউরো গুনতে হয়।
২০২৩ সাল থেকে মাসিক ফির বিনিময়ে ‘মেটা ভেরিফায়েড’ বা ব্লু টিক সেবাও দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, বিজ্ঞাপনের বাইরে নতুন আয়ের উৎস তৈরি এবং উন্নত এআই প্রযুক্তির বাজারে অবস্থান শক্ত করতেই মেটা এই কৌশল নিচ্ছে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মৌলিক সেবা বিনামূল্যে রাখার প্রতিশ্রুতি কতটা বজায় থাকবে, তা এখন দেখার বিষয়।
