বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। ফোর্বসের সাম্প্রতিক তালিকায় মাস্কের সম্পদ ৭২ হাজার ২০০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮৮ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ল্যারি পেজের সম্পদের দ্বিগুণের বেশি।
মাস্কের এই সম্পদ নগদ অর্থের পুরোপুরি নয়; এর বড় অংশ টেসলা ও স্পেসএক্সে তাঁর শেয়ার মূল্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে পুঁজিবাজারে অস্থিরতার কারণে শেয়ারের মূল্য দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে, যার ফলে রাতারাতি সম্পদের পরিমাণও কমে যেতে পারে।
এই বিশাল সম্পদ দিয়ে মাস্ক তাত্ত্বিকভাবে যা যা কিনতে পারতেন তা হলো:
-
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো কাউন্টির সব আবাসন: মাস্কের সম্পদ দিয়ে সান ডিয়েগোর সব বাড়ি কেনা সম্ভব। আরও বড় করে ভাবলে, হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সব বাড়িও কিনে ফেলা সম্ভব।
-
মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্য কিনে ফেলা: মাস্ক ৭১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার দিয়ে পুরো অঙ্গরাজ্যের সব শহর, উপশহর ও আবাসিক সম্পত্তি কিনতে পারেন।
-
এক বছরে বিক্রি হওয়া সব গাড়ি কেনা সম্ভব: ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়ির মোট মূল্য মাস্কের সম্পদের তুলনায় কম।
-
আইভি লিগের সব বিশ্ববিদ্যালয় একাধিকবার কেনা সম্ভব: হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটনসহ আটটি প্রতিষ্ঠান তিনবার কেনার পরও মাস্কের সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে।
-
সুইজারল্যান্ডও ‘কেনা সম্ভব’: বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী দেশের মধ্যে থাকা সুইজারল্যান্ডের মোট জিডিপি মাস্কের সম্পদের কাছাকাছি।
-
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তিন জ্বালানি কোম্পানি: এক্সনমবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপস একত্রে কিনতে পারেন।
-
প্রধান চারটি পেশাদার ক্রীড়া লিগ: এমএলবি, এনবিএ, এনএফএল ও এনএইচএল-এর সব দল মাস্ক কিনতে পারবেন এবং তাতেও ২,৮০০ কোটি ডলার অবশিষ্ট থাকবে।
মাস্কের জন্য এসব সম্পদ কেনা বা না কেনা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিষয়টি দেখাচ্ছে একজন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ এত বিশাল যে সেটি একটি পুরো অঞ্চল, শিল্প, প্রতিষ্ঠান বা দেশের সাথে তুলনা করা যাচ্ছে। এটি শুধুই সাফল্যের গল্প নয়, বরং একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পদের প্রভাব দেশের নীতি, শ্রমবাজার ও সরকারি ক্ষমতার ওপরও বাড়তে পারে।
