ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন রিপাবলিক বাংলার এক সাংবাদিক। মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বেলডাঙার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের দাবি, আলাউদ্দিনকে ‘নৃশংসভাবে’ হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। ভাড়াবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁকে মারধর করে হত্যা করার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হওয়ার কারণেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবরে শুক্রবার সকাল থেকেই বেলডাঙায় বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে। এতে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
এই পরিস্থিতি কভার করতে গেলে মহাসড়কে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন রিপাবলিক বাংলার ওই সংবাদকর্মী। অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে ধাওয়া করা হয়, মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা রিপাবলিক বাংলার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তোলেন।
বিক্ষোভ চলাকালে বেলডাঙায় ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ট্রাফিক কিয়স্ক ভাঙচুর করা হয়, পুলিশের গাড়িতেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
