কুমিল্লা জেলা ডিবি, চান্দিনা, সদর দক্ষিণ, লালমাই ও লাকসাম থানার সমন্বিত অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের প্রধান নয়নসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, সরঞ্জাম ও দুটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি লাকসাম এলাকায় ডাকাতি হওয়া তিনটি গরু ও দুটি বাছুরও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে টহল বৃদ্ধি, অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ নভেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চান্দিনা থানার বরকরই নাথের বাড়ী এলাকায় ডাকাত দলের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস)–এর নেতৃত্বে টিম অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে নীল রঙের পিকআপ থেকে কয়েকজন পালিয়ে যায়, তবে চারজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। অপর একটি হলুদ রঙের পিকআপ ধাওয়া করলে প্রধান নয়ন পুলিশ সদস্যদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার ধাওয়ার পর সদর দক্ষিণ থানার ফিরিঙ্গির হাট এলাকায় পুকুরে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবি সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা লাকসাম ও চান্দিনা এলাকায় সাম্প্রতিক গরু ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মোঃ রায়হান (২০), মোঃ নয়ন (৩৪), মোঃ শাহাদাত হোসেন (২৪), মোঃ নাছির (২৫) ও মোঃ সজীব রানা (২৮)।
পুলিশ জানায়, নয়নের বিরুদ্ধে ১১টি, সজীবের বিরুদ্ধে ৫টি ও রায়হানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে। অভিযান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পিকআপ, টোটো রিভাল বার, বোল্ট কাটার, কাঠের বাটযুক্ত ছুরি, লোহার চাপাতি, স্টিলের চাপাতি, হ্যাকসো ব্লেড কাটারসহ তিনটি গরু ও দুটি বাছুর।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি এলাকায় অভিযান চলছে।
জেলা পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধ দমনে জেলার সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের জান–মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
