কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নির্বাচনের পূর্বে ঘোষিত ‘আমার স্বপ্ন, আমার কুমিল্লা’ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি ইতোমধ্যে সংসদে কুমিল্লার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে একাধিক প্রস্তাব ও আবেদন জমা দিয়েছেন।
তার উদ্যোগে কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংসদে নোটিশ জমা রয়েছে। একইসাথে ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের লক্ষ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালুর প্রস্তাব ইতোমধ্যে অগ্রসর হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সাথে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং প্রস্তাবটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় অন্তত ৭টি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। পদুয়ারবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যারিকেড অপসারণ ও ওভারপাস সম্প্রসারণ নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
এছাড়া সদর দক্ষিণ উপজেলা স্টেডিয়াম পুনরুদ্ধার, কুমিল্লা ইপিজেডের বিষাক্ত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতে কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। কোটবাড়ি সমবায় কলেজ ও কেটিসিসির সমন্বয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ এবং ওয়াসা গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একইসাথে আদর্শ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ, ফায়ার স্টেশন স্থাপন এবং ট্রমা ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পৃথক ক্যাম্পাস স্থাপন, মা ও শিশু হাসপাতালে ট্রমা ইউনিট চালু এবং দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কারাগার শহরের বাইরে স্থানান্তর, কুমিল্লা বিমানবন্দর চালু এবং ময়নামতি উপজেলা বাস্তবায়নের বিষয়েও কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ ইতোমধ্যে মনিরুল হক চৌধুরীর ঘোষিত ১১ দফা অগ্রাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
সার্বিকভাবে, কুমিল্লার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
