ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ডিসেম্বর মাসেই দাম কমেছে ১২ শতাংশ। চাহিদা হ্রাস ও মার্কিন শুল্ক নীতির প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাট-এর তথ্য অনুযায়ী, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
শিল্প মালিকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপ বাড়ায় চীন ও ভারত এখন ইউরোপের বাজারে ঝুঁকছে। তাদের শক্তিশালী কাঁচামাল সরবরাহ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সুবিধার কারণে তারা কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে। ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে।
বিজিএমইএ-এর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, ইউরোপের বাজার পুনরুদ্ধারে সরকারের ভর্তুকি প্রয়োজন। এটি শিল্প মালিকদের জন্য নয়, বরং শিল্প টিকিয়ে রাখার স্বার্থে।
এদিকে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান জানান, ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তবে বাংলাদেশ যদি ২০২৯ সালের মধ্যে ইইউর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে পারে, তাহলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউরোপ নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারে—বাংলাদেশকে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যার প্রায় অর্ধেকই গেছে ইউরোপের বাজারে। তাই এই বাজারে দাম কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
