চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ঈদ বা পূজার সময় ঢাকায় মানুষের ঢল নেমে যেভাবে দেখা যায়, এবারও ভোট দিতে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি এটিকে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী মালামাল বিতরণ ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কেন্দ্র আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি; প্রতিটি কেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিসি জাহিদ বলেন, “সরকারের সব বিভাগ—সেনা, পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি—একই গতিতে ও স্পিরিটে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন উপহার দেওয়া।” আনোয়ারা উপজেলায় সিসিটিভি ক্যামেরা চুরির ঘটনা নিয়েও তিনি নিশ্চিত করেছেন, ক্যামেরাটি ভাঙচুর হয়নি, সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল; ইতোমধ্যে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন অনেক ভোটার পূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এবারের নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল ও মনিটরিং সেল থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।
আজ চট্টগ্রাম জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলায় নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রাঙ্গুনিয়ার ব্রহ্মোত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনুছিয়া তাজভীদুল কুরআন মাদরাসা, রাউজান মহিলা মাদ্রাসা (পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র)। নির্বাচনী মালামাল সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, ভোটকক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রতিপালন বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
ডিসি জাহিদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ ও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, “নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা প্রত্যয় ব্যক্ত করছি—এবারের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য, মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য।”
